বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে থাকায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ায় তারা এ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করলেও সময়মতো পদোন্নতির বোর্ড সভা ও সিন্ডিকেট অনুমোদন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের মধ্যভাগেই বহু শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু তৎকালীন প্রশাসনের সময় এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। শিক্ষকদের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পরও পদোন্নতি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়নি, বরং নানা অজুহাতে তা বিলম্বিত করা হয়েছে।
তারা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ড সভা আহ্বান বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর কিছু পদে বোর্ড সভা শুরু হলেও সিন্ডিকেট অনুমোদন এবং অন্যান্য ধাপ ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির (University Grants Commission of Bangladesh) একটি নিরীক্ষা দলের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ইউজিসির নির্দেশনার ভিত্তিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন নয় বরং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বোর্ড, সিন্ডিকেট ও চ্যান্সেলরের বাইরে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। অথচ ইউজিসির নির্দেশনার কারণে পুরো প্রক্রিয়া থমকে আছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, গত ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও শাটডাউনের কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Barishal) ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। অনুমোদিত ৪০১টি শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে ২৬৬টি পদ। দীর্ঘদিন ধরে অন্তত ৫১টি পদ শূন্য থাকলেও তা পূরণ হয়নি।
এছাড়া ইউজিসির লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
এদিকে, চলমান সংকট নিয়ে পৃথক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ না রেখে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা জরুরি।
উপাচার্য আরও বলেন, “এই ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তাদের দাবি, কার্যকর পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু না হলে এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...