বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৪ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি বালুবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী ইজিবাইক (অটো) ও সাইকেল আরোহী এক শিক্ষার্থীসহ ব্রিজটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় নারী ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ট্রাকচালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া ট-১১-১৮৪৯ নম্বরের একটি বালুবাহী ট্রাক ব্রিজটি পার হওয়ার সময় যাত্রীবোঝাই একটি ইজিবাইক এবং সাইকেল আরোহী এক শিক্ষার্থীও একই সঙ্গে সেখানে অবস্থান করছিল। এ সময় বিকট শব্দে বেইলি ব্রিজটি ধসে পড়ে এবং ট্রাক, ইজিবাইক ও শিক্ষার্থী খালের পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ট্রাকচালক বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাঁচুড়িয়া খালের ওপর নির্মিত জোড়া বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো বিকল্প সড়ক বা ডাইভারশন নির্মাণ না করেই জোড়া বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের অংশ খুলে ফেলে। ফলে অবশিষ্ট অংশটি অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
রবিবার সকালেও প্রতিদিনের মতো ওই ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়েই যানবাহন চলাচল করছিল। এমন অবস্থায় ভারী বালুবাহী ট্রাক এবং নারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী বহনকারী একটি ইজিবাইক ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় সেটি ভেঙে পড়ে।
তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সরোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো বিকল্প রাস্তা তৈরি না করেই ব্রিজের এক পাশ ভেঙে ফেলেছিল। এই চরম গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার দাবি জানাই।”
দুর্ঘটনার পর ব্রিজটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় জেলা শহরের মূল সড়কের সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত ও দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...