বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একটি অংশ ধসে গিয়ে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষ এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন—যেমন ফায়ার সার্ভিস—চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত ২২ মার্চ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ শুরু করার পরই তুলাতলা এলাকায় এই সড়ক ধসের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের সময় যথাযথ কারিগরি নকশা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে সড়কের একেবারে পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর খনন করায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
তাদের দাবি, খালের উত্তর পাশে খাড়া কেটে মাটি অপসারণ করা হলেও দক্ষিণ পাশে ঢালু রেখে কাজ করায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, যা ধসের অন্যতম কারণ।
স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল সরদার বলেন, “আমরা বারবার নিষেধ করলেও ভেকু চালক কোনো কথা শোনেননি। তার অবিবেচনাপ্রসূত খননের কারণেই এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।”
অন্যদিকে, ৭০ বছর বয়সী ইউসুফ মোল্লা জানান, “রাস্তার পাশ একেবারে খাড়া করে কাটা হচ্ছিল। আমরা সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু কেউ শোনেনি। এখন রাস্তা ভেঙে গেছে।”
তবে খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক ভিন্ন দাবি করেন। তিনি বলেন, “প্রথমে সেখানে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছিল। পরে এসে দেখি বড় ধরনের ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।”
এলজিইডি রাজাপুর উপজেলার প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। খাল খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান, “খাল খননে কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সড়কটি দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।”
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি খাল খনন এবং ৩টি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তুলাতলা এলাকার খাল খননও ওই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কেবল সাময়িক সংস্কার নয়—টেকসই ও স্থায়ীভাবে সড়ক পুনর্নির্মাণ না করা হলে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...