Logo Logo

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা


Splash Image

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের নজিরবিহীন ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আশরাফুল ইসলাম মারুফ, আবু সুফিয়ান এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের আকলিমা আক্তার ও মুমতাহিনা আক্তারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা শিক্ষকদের সঙ্গে এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণকে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান।

এদিকে মানববন্ধন চলাকালে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে ‘শিবিরের ইন্ধন’ বলে দাবি করা হয়েছে। ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাবিদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মূলত শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা এই মানববন্ধন করছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান পাল্টা-স্লোগান শুরু হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ইতোমধ্যে পাঁচজন নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বহিষ্কৃতরা হলেন— কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।

একই ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক পরিষদের অভিযোগ অনুযায়ী, উন্নয়ন কাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী। দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন। ঘটনার সময় অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকরা মধ্যাহ্নভোজ করার সময় হামলাকারীরা তাদের গালিগালাজ করে টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

তবে ছাত্রদল নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপকালে ভুল বোঝাবুঝি থেকে তর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কিছু ভাঙচুর হলেও এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...