বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার (১ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু আইরিন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন গেরদা ইউনিয়নের স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯২২) করেন তার বাবা বাকা মিয়া বিশ্বাস। নিখোঁজের ৬ দিন পর, গত ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাখুন্ডা এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির পচা-গলা লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
ঘটনার পরপরই কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে খুব দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের জট খোলে পুলিশ। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫) নামে তিনজনকে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা লোমহর্ষক এই খুনের বিবরণ দিয়েছে। মূল আসামি ইসরাফিল মৃধা ঘটনার দিন চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু আইরিনকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার করে এবং বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এ সময় জানাজানির ভয়ে ইসরাফিল শিশুটিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে আসামি নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পারলে তিনি তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে লাশটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তারা সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ তুলে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৮৪) দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য জড়িতদের ধরতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ আলমসহ ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...