প্রতীকী এই ছবিটি এআই দ্বারা নির্মিত।
বিজ্ঞাপন
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রহিম খানের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলার বেনীরগোপ গ্রামের মরহুম হাজী ঈমান আলী মীরের কন্যা জমিলা বেগম। ১৯৮৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে এই মানবিক কাজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ এই চার দশকে তার দক্ষ হাতে অন্তত দেড় হাজারেরও অধিক মায়ের স্বাভাবিক ও নিরাপদ সন্তান প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।
এলাকায় অত্যন্ত সহজ-সরল ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই নারী দিন-রাত কিংবা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা তোয়াক্কা করেন না। কোনো অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রসব বেদনার খবর পেলেই সব কাজ ফেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে যান তিনি। তার এই সেবার পরিধি শুধু নিজ গ্রামেই সীমাবদ্ধ নেই; নালিতাবাড়ী ছাড়িয়ে নকলা, শেরপুর সদর, হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষও তার সেবা গ্রহণ করেন।
জমিলা বেগমের ধাত্রী বিদ্যায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। মূলত নিজের মায়ের কাছ থেকেই এই কাজের হাতেখড়ি তার। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াতের সুবাদে জয়রামকুড়া ক্রিশ্চিয়ান হাসপাতালের সেবিকাদের কাছ থেকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এই দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। অনেকে খুশি হয়ে উপহার সামগ্রী দিলেও তার মূল লক্ষ্য সবসময়ই ছিল সেবা। একসময় যখন গ্রামে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা বা ডাক্তার ছিল না, তখন থেকেই তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নিজের কাজের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জমিলা বেগম জানান, সওয়াব লাভ, মানুষের দোয়া আর পরকালীন শান্তির আশায় তিনি এই কাজ করেন। একজন মায়ের কোল জুড়ে যখন সুস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তখন সব ক্লান্তি ভুলে এক পরম প্রশান্তি অনুভব করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ধাত্রী দিবসের এই দিনে স্থানীয় সচেতন মহল জমিলা বেগমের এই নিঃস্বার্থ কাজের রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...