বিজ্ঞাপন
বুধবার (৬ মে) সকালে দীঘলছড়ি যুব সংঘ ক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা ও মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের স্থান নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ করে সেই স্থান পরিবর্তন করে দক্ষিণ পাশে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কার নির্দেশে এবং কী স্বার্থে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
প্রস্তাবিত দক্ষিণ পাশের স্থানটি বাতিলের পক্ষে বক্তারা বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেন। তাদের মতে, দক্ষিণ পাশটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে ওয়াশ ব্লক নির্মিত হলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। এছাড়া এটি নির্মিত হলে খেলার মাঠের পরিসর সংকুচিত হয়ে যাবে, যা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ক্রীড়া পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে দক্ষিণ পাশে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিত ও বাতিল করা, পূর্বনির্ধারিত বা অধিক উপযুক্ত স্থানে এটি নির্মাণ করা এবং এই অনিয়মের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একইসাথে ভবিষ্যতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের মতামতের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলন শেষে একই দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থ ও ক্রীড়া পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এলাকাবাসী বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে দীঘলছড়ি গ্রামে এই আধুনিক স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে। স্টেডিয়ামটিতে ৩০০ ফুট গ্যালারি, ১২৬টি চেয়ারযুক্ত ভিআইপি গ্যালারি, ড্রেসিং রুম ও ড্রেনসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...