বিজ্ঞাপন
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় বসবে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আইআরজিসি-র (IRGC) সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফেডারেশন প্রধান মেহেদি তাজের কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইরান জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ফেডারেশন সভাপতি মেহেদি তাজ বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ১০টি শর্ত রয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানি দলকে যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা। প্রধান দাবিগুলো হলো:
ভিসা নিশ্চিতকরণ: খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই ভিসা দিতে হবে।
আইআরজিসি সদস্যদের নিরাপত্তা: মেহেদি তারেমি ও এহসান হাজসাফির মতো তারকা যারা আইআরজিসি-তে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় প্রতীকের সম্মান: টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: বিমানবন্দর, হোটেল এবং যাতায়াতের পথে দলের খেলোয়াড়দের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানি ফুটবলারদের স্বাগত জানানো হবে। তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। অনুশীলনের জন্য ইরান দল অ্যারিজোনার টাকসনে অবস্থান করবে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন কঠোরভাবে জানিয়েছে, যোগ্যতা অর্জন করে আসা কোনো দেশকে রাজনৈতিক কারণে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। এখন দেখার বিষয়, আয়োজক দেশগুলো ইরানের এই শর্তগুলো কীভাবে গ্রহণ করে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...