বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ছোট পরিসরে গরু পালন শুরু করার পর ধীরে ধীরে খামার গড়ার স্বপ্ন দেখেন ফারিয়া আক্তার ইলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন “ফাহিয়ান অ্যাগ্রো ফার্ম”। বর্তমানে তার খামারে শাহিওয়াল, ফাইটার, ওয়েস্টার্ন ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। খড়কুটো, ঘাস ও দানাদার খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। গরুর খামারের পাশাপাশি তিনি ছাগল পালন, কবুতর পালন এবং মাছ চাষও করছেন। এতে তার খামারটি একটি বহুমুখী কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
ফারিয়া আক্তার ইলা বলেন, “শুরুতে অনেকেই আমাকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। একজন নারী হয়ে খামার পরিচালনা করা নিয়ে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি থেমে যাইনি। নিজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে গেছি। এখন মানুষ প্রশংসা করছে, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “খামারের পশুগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হচ্ছে। কোনো ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হয় না। ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তার এই সফলতার পেছনে স্বামী মো. সুমন খানের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। ফারিয়া জানান, শুরু থেকেই তার স্বামী সাহস ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে ছিলেন। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পেয়েছেন।
বর্তমানে ফাহিয়ান অ্যাগ্রো ফার্মে এলাকার কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খামারে কাজ করে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, একসময় যারা ফারিয়া আক্তার ইলাকে নিয়ে সমালোচনা করতেন, এখন তারাই তার সফলতায় প্রশংসা করছেন। নারী হিসেবে তার এই উদ্যোগ এলাকায় অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। স্বপ্ন, সাহস ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে একজন নারী উদ্যোক্তার সফল হয়ে ওঠার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন রাজাপুরের ফারিয়া আক্তার ইলা।
রাজাপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ফারিয়া আক্তার ইলা একজন নারী উদ্যোক্তা,তিনি কোরবানির জন্য দেশীয় পদ্ধতিতে তার খামারে গরু লালন -পালন করে মোটাতাজা করেছেন। আমরা তাকে সব সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...