বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি-১০৮ ধানের চাল কাটারি, নাজির শাইল ও জিরা শাইলের চেয়েও কিছুটা সরু। দেখতে অনেকটা পোলাওয়ের চালের মতো। প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু।তাই ভোক্তাদের কাছে এ চালের ভাত বেশি সমাদৃত হবে । রান্নার পর দীর্ঘ সময় ভাত ভালো থাকে—এটিও এ জাতের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ধানগাছ শক্ত হওয়ায় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়। প্রতিটি শীষে ২৫০ থেকে ২৭০টি পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়। পাতার আকার বড় হওয়ায় খড়ের পরিমাণও বেশি হয়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া উচ্চ ফলন, চালের গুণগত মান ও বাজার দর বেশি হওয়ায় ব্রি-১০৮ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
ধানগবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জানাগেছে , ২০২৪ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এ জাত অনুমোদন পায়।এরপর ২০২৫ সালে প্রথম এ জেলায় সীমিত পরিসরে মাঠপর্যায়ে চাষ করেন কৃষক। হেক্টরপ্রতি এ ধান প্রায় ৮ দশমিক ৭ টন ফলন দেয় । অনুকূল পরিবেশে এ ধান আরো বেশি ফলন দিতে সক্ষম । এ ধানের বাজার দর বেশি। তাই চলতি মৌসুমে এ জাতের আবাদ বেড়েছে। ব্রি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রদর্শনী প্লট ও বীজবর্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে, এতে দ্রুত এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী ইউনিয়নের বোড়াশী দক্ষিণ গ্রামের রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস গত বছর ৫২ শতাংশের ১ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধানের চাষ করেন। প্রথম বছর তিনি ৪৫ মন ফলন পান। এ ধানে রোগ বালাই কম। সার, সেচ ও কীটনাশক কম লেগেছে । এ বছরও তিনি ব্রি থেকে নতুন জাতের এ ধান বীজ সংগ্রহ করে নিজের জমিতে আবাদ করেছেন।
ওই কৃষক বলেন, গত বছর ব্রি-১০৮ ধান ঘরে তুলি। তারপর এ ধানের চালের ভাত খেয়ে ভাল স্বাদ পেয়েছি । এ চালের ভাত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। বাজারে এ ধানের চাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে । এ বছরও মাঠে ব্যাপক ফলন হয়েছে। স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এ ধান ১৫০ দিনে কাটা যায়। পরে পাট অথবা অন্য ফসল করা যায়। প্রতিদিন আমার ক্ষেত দেখতে আশপাশের কৃষক আসছেন । আগামী মৌসুমে তারা এ জাত চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
একই গ্রামের কৃষক হাসেম শেখ বলেন, ‘ব্রি-১০৮ গত বছরও ভালো ফলন দিয়েছিল। এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামীতেও আমি এ জাতের আবাদ করব।’
বোড়াশী গ্রামের কৃষক আশুতোষ অধিকারী বলেন, সরু জাতের ব্রি ধান১০৮ অধিক ফলন দিযেছে। তাই আগামীতে আমি এ ধানের আবাদ করব।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, এ ধান কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বছর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ একরে এ ধানের আবাদ হয়। এবছর ১শ’ হেক্টর জমিতে এ ধানের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে। স্বল্পজীবনকাল সম্পন্ন ও লাভজনক এ ধানের চাষাবাদ সম্প্রসারণে আমরা কাজ করছি। বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ব্যাপক সরবরাহ ও সাধারণ ভোক্তার নাগালে পৌঁছাতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা ।
ব্রি’র পরিচালক (গবেষণা) ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রি ১০৮ উচ্চফলনশীল, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন ও উন্নত মানের ধান। তাই কৃষক ও ভোক্তা পর্যায়েই এ ধান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে । বাজারে এ ধানের ভালো দাম রয়েছে, তাই কৃষক লাভবান হবেন । হাইব্রিড ধানের মতো এ ধান ফলন দিতে পারে। ভবিষ্যতের চাষাবাদের জন্য এ ধানের বীজ সংরক্ষণ করা যায়। বীজ সহজ লভ্য। দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রি ধান১০৮ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। #
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...