Logo Logo

বাকেরগঞ্জে কৃষি প্রকল্পের নামে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ


Splash Image

বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রাসেল সিকদার। তার সঙ্গে যোগসাজশে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উৎপাল চন্দ্র দাস ও মো. মঞ্জুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পার্টনার প্রকল্প, চর উন্নয়ন প্রকল্প এবং তেল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ও কৃষি উপকরণ প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেনি। কাগজে-কলমে কৃষকদের নাম দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কৃষক কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রণোদনার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বা একই পরিবারের সদস্যদের বারবার উপকারভোগী দেখিয়ে বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগও উঠেছে।

সরেজমিনে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, বিভিন্ন প্রদর্শনী প্রকল্পে সরকারিভাবে বড় অঙ্কের বরাদ্দ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার সামান্য অংশ ব্যয় করা হয়েছে। অনেক প্রদর্শনীর অস্তিত্ব কাগজে থাকলেও বাস্তবে মাঠে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

জানা গেছে, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর, বোয়ালিয়া ও বাহাদুরপুর গ্রামের বিভিন্ন ব্লকে প্রকল্পের প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনায় একই ব্যক্তিদের একাধিকবার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, তেল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বোরো ধান, সূর্যমুখী ও সরিষার অন্তত ৮ থেকে ১০টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়নি। এছাড়া পার্টনার প্রকল্পের ৪ থেকে ৫টি প্রদর্শনী কাগজে দেখানো হলেও বাস্তবে কার্যক্রম ছিল নামমাত্র। প্রতিটি প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহাদুরপুর গ্রামের পার্টনার প্রকল্পে ইমন খান ও তার পিতা হুমায়ূন খানের নামে চিচিঙ্গা চাষের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও সরেজমিনে ওই প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া কোনো কোনো প্রদর্শনীতে সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা ব্যয় করে বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে চর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনীতে প্রতি ইউনিটে ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার নিম্নমানের উপকরণ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল সিকদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: তৌফিকুল ইসলাম, জানান অভিযোগে তদন্তের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সরকার কৃষকদের উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই সুবিধা আমরা পাই না। মাঝপথেই সব লুট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে এলাকাবাসী ও সাধারণ কৃষকরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন,এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

(বরিশাল) সংবাদ দাতা

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...