বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালেহা খাতুন ওই এলাকার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মরিচ খেতের ধারে গরু বাঁধতে যান সালেহা। এসময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। সালেহার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তার পায়ের ক্ষতস্থানের উপরে কাপড় বেঁধে দ্রুত তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও সালেহা সুস্থ ও সচেতন ছিলেন।
নিহতের স্বামী আতিয়ার রহমানের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় 'অ্যান্টিভেনম' ইনজেকশন না দিয়েই পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৪-৫ বছর আগেও একই এলাকায় সাপে কাটা এক গৃহবধূকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার করায় তার মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাকিল রহমান বলেন, "অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর আইসিইউ ম্যানেজমেন্ট খুবই জরুরি, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালে নেই। রোগীর পালস ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাইয়ার সেন্টারে রেফার করা হয়েছিল।"
অন্যদিকে, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, তারা রোগীকে পাওয়ার পর অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছিলেন। তবে সাপের বিষ অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একজন পুত্র ও এক কন্যার জননী সালেহার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...