বিজ্ঞাপন
পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের মৌখালী চরভরাটী এলাকার বাসিন্দা লতিফ সরদার। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৬৪ বছর। তবে স্থানীয়দের দাবি, তার প্রকৃত বয়স এর চেয়েও বেশি। তিনি মৃত রজত সরদারের ছেলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেড় শতকেরও কম জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি জরাজীর্ণ মাটির ঘরের পেছনের অংশ ধসে পড়েছে। ভাঙাচোরা সেই ঘরের সামনের বারান্দায় দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন লতিফ সরদার। নিজের শরীর নড়ানোর মতো শক্তিও নেই তার। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব কাজেই অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে শারীরিক অসুস্থতার মাঝেও তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের গুটি দেখা দেয়। পরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই কার্যত শয্যাশায়ী জীবন কাটাচ্ছেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে গত ছয় বছর ধরে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার স্ত্রী ফজিলা বেগম। স্বামীর সেবাযত্নের পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। তবে সেই আয়ে অনেক সময় দুবেলা খাবারের সংস্থানও হয় না। কখনো অনাহারে, আবার কখনো অর্ধাহারে কাটে তাদের দিন।
চোখের পানি মুছতে মুছতে ফজিলা বেগম বলেন, “স্বামীকে চিকিৎসা করাতে চাই, কিন্তু সামর্থ্য নেই। সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় অনেকের কাছে গেছি। কিন্তু টাকার কথা শুনে ফিরে এসেছি। গরিব মানুষের কপালে যেন কোনো সাহায্যই নেই।”
লতিফ সরদারের নিকটাত্মীয় এবং পাইকগাছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “সাধ্যমতো ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছি। কিন্তু তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি উদ্যোগ এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, “লতিফ সরদারকে চিনতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।”
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, অসহায় লতিফ সরদারের পরিবার এখন সরকারি সহায়তা এবং সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন গুনছে। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মিললে হয়তো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...