বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী ওই তরুণ এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম লাবিব তালুকদার। তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন এবং ওই ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের টোকন তালুকদারের ছেলে।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়া অভিযোগকারী অভি তালুকদার একই গ্রামের মৃত বিপ্লব তালুকদারের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে অভি তালুকদার তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, "ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক লাবিব ভাই আমাদের বয়সে বড়। আমি তাকে বড় ভাই হিসেবে সবসময় সম্মান করি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবত আমার সাথে বাকবিতণ্ডা করে আসছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে তিনি আমার কাছে অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি করেন।"
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী তরুণ আরও জানান, গতকাল সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি বাঁশবাড়িয়া ড. ইমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের পাশে একটি দোকানে বসে মোবাইল গেমস খেলছিলেন। এ সময় হঠাৎ লাবিব তালুকদার সেখানে এসে পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে অভি গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে ছাত্রদল নেতা উত্তেজিত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এই ঘটনার পর সোমবার রাতেই অভির মা সাবানা আক্তার বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা লাবিব তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধর ও চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, "অভি আমাদের এলাকারই ছোট ভাই। গত কয়েকদিন আগে সে আমার ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা শাহেদ তালুকদারকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্ট দেয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এছাড়া অভি অন্যান্য ছাত্রদল নেতাদের সাথেও বিভিন্ন সময় তর্কে জড়ায়। আমি একজন দায়িত্বশীল হিসেবে বিষয়টি সমাধান করতে সোমবার অভির কাছে যাই এবং তার সাথে কথা বলি। সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি, আমি কেবল তাকে ফেসবুকে এমন আপত্তিকর পোস্ট দিতে নিষেধ করেছি। ঘটনার সময় স্থানীয় অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।"
সার্বিক বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল খান বলেন, "অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারী—দু'জনই আমাদের অত্যন্ত পরিচিত ও কাছের মানুষ। মূলত ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আমি জানার পর ইতিমধ্যে দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছি এবং আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত একটি সুষ্ঠু মীমাংসার চেষ্টা করছি।"
টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এই ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...