বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ই-বুকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত দিকনির্ধারণ, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্যেও সরকার দ্রুত কিছু জনকল্যাণমূলক ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ই-বুক অনুযায়ী, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা কর্মসূচি। একইসঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইলবন্ড, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের আর্থিক সম্মানী প্রদান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসূচি গ্রহণ।
ই-বুকে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিছু ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকারের রাজনৈতিক বার্তাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সীমিত রাখা, সরকারি ব্যয়ে সংযম নীতি অনুসরণ, মাঠপর্যায়ের সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন এখনো সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে প্রথম ১০০ দিনে সরকার একটি সক্রিয়, দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম এবং জনমুখী প্রশাসনের ইঙ্গিত দিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ই-বুকে আরও বলা হয়, সরকারের অনেক কর্মসূচি এখনো প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকলেও রাষ্ট্রকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করার অঙ্গীকার ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং তা বাস্তবায়নে তার প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক নির্দেশনা বর্তমানে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ই-বুকে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তবে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রবণতা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...