Logo Logo

টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ


Splash Image

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২৩নং জিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন বিশ্বাসের বিরোদ্ধে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি কর্মসূচি পালন না করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ও স্কুলের ভেতরে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানো এবং দায়িত্বে অবহেলা সহ নানাবিধ অভিযোগ এনে সহকারী শিক্ষক মিলন বিশ্বাস কে কৈফিয়ত তলব (শোকজ ) করে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।


বিজ্ঞাপন


সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়ার স্বাক্ষরিত ঐ শোকজ পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় তার অনিয়ম গুলো। শোকজ পত্রে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হলে পরবর্তীতে সহকারী শিক্ষক মিলন বিশ্বাস লিখিত জবাব জমা দেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে। যেখানে তার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি বিদ্যমান। কিন্তু কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ বা বিচারের সম্মুখীন না হয়েই শুধুমাত্র কারণ দর্শিয়েই পার পেয়ে যায় সহকারী শিক্ষক মিলন বিশ্বাস।

অপরাধ প্রমাণ ও স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না হ‌ওয়ায় সম্প্রতি সময়ে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন বড় অপরাধ করার পরে যদি অপরাধীর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে ভবিষ্যতে এমন অন্যায় পুনরায় ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক‌ই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, শিক্ষক মিলন বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর এর ভাই হ‌ওয়ায় ও আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণে বিগত সরকারের আমলে অনেক অনিয়ম করেও পার পেয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় দুইজন শিক্ষককে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর কার্যালয় থেকে একাধিকবার নানা কারনে শোকজ করা হয়েছে তাঁর মধ্যে মিলন বিশ্বাস একজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মিলন বিশ্বাসের সাথে কথা বলতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে তখন তিনি ক্লাস এর অজুহাত দেখিয়ে পরে কথা বলার সময় চান। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু অভিযোগ স্বীকার করেন ও কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেন। স্বীকার করা অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে এক পর্যায়ে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিলন বিশ্বাস যেটা করেছে সেটা অন্যায়। আমি তার অপরাধ গুলো জানতে পেরে তাকে শোকজ করেছি এবং তিনি কৈফিয়ত তলবের জবাবও দিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঐ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকদের শাসন করা নয় বরং তাদের ভুল গুলো শুধরানো। সে যেহেতু তার ভুল স্বীকার করেছেন, কাজেই আমরা পরবর্তীতে আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। আমি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি যে তিনি পুনরায় আর ঐ ভুলগুলো করেন কি না।

মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকের বিরুদ্ধে এত অনিয়মের অভিযোগ থাকলে এর প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষার্থীদের ওপর। সুতরাং কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে এবং অভিযোগ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সচেতন মহলের।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...