বিজ্ঞাপন
গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাতে শিবচর উপজেলার কেরানীবাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই চক্রের মূলহোতা কুলসুম বেগমের জামাই কুদ্দুস রহমান (৩৫) এখনো পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত কুলসুম বেগম শিবচরের কেরানীবাট গ্রামের সামাদ খানের মেয়ে এবং মানবপাচার চক্রের প্রধান কুদ্দুসের শাশুড়ি। গ্রেপ্তারের পর আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের মৃত বজলু হাওলাদারের ছেলে সানাউল্লাহকে (২২) সরাসরি ইতালি পাঠানোর জন্য শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে কুদ্দুসের সাথে চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক ২০ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সানাউল্লাহকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর একটি দালালচক্র তাকে আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতন চালায়।
পরবর্তীতে নির্যাতনের ভিডিও বার্তা বাংলাদেশে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে সানাউল্লাহর মুক্তিপণ হিসেবে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অসহায় পরিবার ধারদেনা করে মাফিয়া চক্রের হাতে মোট ৪০ লাখ টাকা তুলে দিলেও গত ৬ মাস ধরে সানাউল্লাহর কোনো হদিস মিলছে না। পাচারকারী দালালচক্র সানাউল্লাহকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে বলে আশঙ্কা করছে তার পরিবার।
এই নৃশংস ঘটনায় গত পহেলা জুন সানাউল্লাহর দুলাভাই এবং দুধখালী গ্রামের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে রনি খান (৩৭) বাদী হয়ে মাদারীপুর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে চক্রের মূলহোতা কুদ্দুসসহ ১১ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মামলাটি নিয়মিত এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলা রুজুর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূলহোতা কুদ্দুসের শাশুড়ি কুলসুম বেগমকে গ্রেপ্তার করে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মানবপাচার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা জামাই কুদ্দুসসহ বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...