বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৫ জুন) সকালে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলএ কেস নম্বর ০৩/২০২১-২০২২-এর আওতায় মহাসড়কের দুই পাশের জমির মূল্য নির্ধারণে প্রকৃত বাজারমূল্য ও ভূমির ব্যবহারগত বৈশিষ্ট্য যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি, দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানোর মুখে পড়লেও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, জেলা বিএনপির নেতা সেলিকুর রহমান স্বপন, মো. নাজিম উদ্দিন, সুমন ফারাহ, মো. আল আমিন খান, শাহাদাত হোসেন এবং তৈমুর আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাজার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসা অনেক জমিকে আবাসিক বা সাধারণ শ্রেণির জমি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিগ্রহণকৃত এলাকার বিভিন্ন স্থানে বহু বছর ধরে দোকানপাট, ধান-চালের আড়ত, গুদাম, মিল ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি রেকর্ডেও এসব জমি বাণিজ্যিক বা দোকান শ্রেণিভুক্ত থাকলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সেই বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, বসতঘর, পুকুর, ভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় বহু পরিবার ভবিষ্যতে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। শুধু আবাসন নয়, জীবিকার প্রধান উৎস হারানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।
স্মারকলিপিতে ভূমির শ্রেণি পুনর্মূল্যায়ন, বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোকে যথাযথ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় মূল্য নির্ধারণেরও আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি পৌঁছে দেন এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের একটাই প্রত্যাশা—উন্নয়নের স্বার্থে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও তাদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...