বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষ সাইফুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার মানের অবনতি, দীর্ঘ নয় বছর ধরে পরিচালনা কমিটি গঠন না করা এবং ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় হতাশাজনক ফলাফলের জন্য দায়ী থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অজুহাতে ভুয়া ভাউচার প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া অধ্যক্ষের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার অভিযোগও করা হয়। স্মারকলিপিতে ওই গ্যাংয়ের হামলায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ নিয়মিতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। অধিকাংশ সময় তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন, যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো পরিচালনা কমিটি কিংবা অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়নি। এছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করলেও তিনি তার কোনো জবাব দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার মান ক্রমাগত অবনতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অধ্যক্ষের অপসারণ এবং দ্রুত একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. ইউনুছ খন্দকার, প্রাক্তন ছাত্র জিয়া উদ্দিন মিজান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. রায়হান, সাইফুদ্দিন সজিব, আইয়ুব পাভেল, আব্দুর রহিম, নুরুল ইসলাম, শাহজাহান, আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধ্যক্ষ সাইফুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...