বিজ্ঞাপন
রোববার (২১ জুন) সকালে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোশারেফ হোসেন মোল্লা বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের দাবির সমর্থনে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি প্রদর্শন করেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মোশারেফ হোসেন মোল্লা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তাঁদের পরিবারের একাধিক সদস্যও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তাঁর মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মোশারেফ হোসেন মোল্লা।
পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার কাছে চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রকাশিত তথ্যের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীফ রফিকুজ্জামান, বোরহান উদ্দিন শেখ, সবেদ আলী ভূঁইয়া, এনায়েত হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...