বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ রেজাউল করিম এবং পরিচ্ছন্নকর্মী জোবায়েরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনের সময় নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মচারীর পরিবর্তে অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে রোগ নির্ণয়ের সঠিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে।
শোকজের বিষয়টি গোপনীয় থাকার পরও গণমাধ্যম করমীদের হাতে আসলে এ উক্ত অনিয়ম নিয়ে প্রথমসারির ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে হাসপাতাল প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসে। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নকর্মী জোবায়েরকে নবীনগরে বদলি করা হলেও প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ রেজাউল করিমকে নামে মাত্র সতর্ক করে আগের পদেই বহাল রেখেছেন।
এ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যদি অভিযোগের সত্যতা না থাকে তাহলে শোকজ কেন দেওয়া হলো, আর অভিযোগের ভিত্তি থাকলে শুধুমাত্র একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মূল দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে বহাল রাখার কারণ কী?
এদিকে স্থানীয়ভাবে রেজাউল করিম প্রভাবশালী চিকিৎসক ও ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. আকতার হোসেনের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সদর হাসপাতাল করতৃপক্ষ বলছেন, প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই একজন রোগীর চিকিৎসা নির্ভর করে। সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পরিবর্তে পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজ করানো হলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা রোগীর জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, অনেক সময় ল্যাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। এতে নমুনা জমা দেওয়া, রিপোর্ট সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে গিয়ে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি এড. আবদুন নুর বলছেন, একটি সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে শোকজের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রতন কুমার ঢালী বলেন, বিভিন্ন দায়িত্বের অবহেলার কারনে প্যাথলজি বিভাগে রেজাউল ও জোবায়েরকে শোকজ করা হয়েছিল। প্রমাণের ভিত্তিতে জোবায়ের কে বদলি ও রেজাউলকে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শোকজের মাধ্যমে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কেন মূল অভিযুক্ত কর্মকর্তা এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এবং কেন কেবল পরিচ্ছন্নকর্মীকেই বদলির মাধ্যমে দায়মুক্তির পথ তৈরি করা হলো? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।
এদিকে বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সারজন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া ভিডিও বক্তব্য না দিয়ে তিনি বলেন এমনিতেই জনবল সংকট। আবার সব বদলি কিংবা শাস্তি দিলে কাজ করানোর মানুষ পাওয়া যাবে না।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...