বিজ্ঞাপন
সাইবার জগৎ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে ইতোমধ্যে নিজের দক্ষতা গড়ে তুলেছেন জয়। এ বিষয়ে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। এমনকি সাধারণ শিক্ষার জন্যও কোনো দিন স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবুও বাংলা ও ইংরেজির কঠিন শব্দ অনায়াসে লিখতে পারেন তিনি।
জয় হালদার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক সুশীল হালদারের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে জয় বলেন, “মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকে না। আমার মা-বাবাও এক সময় বেঁচে থাকবে না। তখন আমার কী হবে, আমাকে কে দেখাশোনা করবে—এই চিন্তা থেকেই আমি কিছু করতে চাই। আমি কারও বোঝা হতে চাই না। একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন পেলে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারব এবং পরিবারের হাল ধরতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক আগে আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি আবেদন পাঠিয়েছিলাম। সেখানে একটি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সেই আবেদনের কোনো সাড়া পাইনি। তাই আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
জয়ের বাবা সুশীল হালদার জানান, “জয় বেশির ভাগ সময় ঘরে একা থাকে। সময় কাটানোর জন্য সাত বছর আগে আমার কাছে একটি স্মার্টফোন চেয়েছিল। তখন আমি ১২ হাজার টাকা দিয়ে তাকে একটি স্মার্টফোন কিনে দিই। পা দিয়ে মোবাইল চালাতে চালাতে সে এখন বিশ্বের নানা খবরাখবর রাখে। বাংলা ও ইংরেজিতে নির্ভুলভাবে লিখতে পারে এবং সুন্দরভাবে বিভিন্ন আবেদনপত্রও তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক মানুষ জয়কে দিয়ে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট খোলেন। জমির পরচা উত্তোলনের আবেদন, বিধবা ভাতা কিংবা বয়স্ক ভাতার আবেদনসহ নানা ধরনের অনলাইন সেবার কাজও সে করে দেয়।”
জয়ের মা বীভা হালদার বলেন, “আমি আমার এই প্রতিবন্ধী ছেলেকে পরিবারের বোঝা মনে করি না। প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার কাছে মোবাইল ও ল্যাপটপের কাজ শিখতে আসে। সে তাদের বিভিন্ন কাজ করে দেয়। এতে আমাদের খুব ভালো লাগে।”
তবে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “জয় এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বাথরুমে যেতে হলে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। এতে আমার খুব কষ্ট হয়। ঘরের সঙ্গে যদি একটি বাথরুম করা যেত, তাহলে আমার কষ্ট কিছুটা কমতো।”
রাজাপুর গ্রামের বিশিষ্ট লেখক ও নাট্যকার আকাশ রঞ্জন বলেন, “জয় হালদার আমাদের গ্রামের গর্ব। তার মতো বিরল প্রতিভার মানুষ আমি আগে দেখিনি। আমার কাছে মনে হয়, সে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মতোই মেধাবী। তার এই মেধাকে আমাদের কাজে লাগানো উচিত।”
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “কিছুদিন আগে আমি হোয়াটসঅ্যাপে জয় হালদারের একটি আবেদন পেয়েছি। ওই আবেদনে সে একটি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন দাবি করেছে। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাকে একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন দেওয়ার চেষ্টা করব।”
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জয় হালদার। এখন তার প্রত্যাশা—একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্টফোন, যা হতে পারে তার আত্মনির্ভরশীল জীবনের নতুন পথচলার হাতিয়ার।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...