বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বেলুন উড্ডয়ন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে এক আনন্দমুখর পরিবেশে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা এবং সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মানবিকী অনুষদের ডিন সুকান্ত বিশ্বাস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, কৃষি অনুষদের ডিন ড. জিলহাস আহমেদ জুয়েল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নিরলসভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বৃত্তি ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। প্রথমবারের মতো ডিনস কমপ্লেক্স চালু করার পাশাপাশি গবেষণাগার সমৃদ্ধকরণ এবং মেডিকেল সেন্টার সংস্কার করা হয়েছে।’
শিক্ষক সংকট দূরীকরণের পদক্ষেপ উল্লেখ করে উপাচার্য আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ২০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৪৭ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নিতে আরও ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রজেক্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহায়তা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অপরিসীম চেষ্টায় এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের অবদানকে আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমাদের প্রত্যাশা, একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশ ও বিদেশের বুকে অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সবাইকে সব বিভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা সিলভার জুবিলি উদযাপন উপলক্ষে গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং মূল প্রশাসনিক ভবনে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...