Logo Logo

পাইকগাছায় উলুবুনিয়া নদীর জমি দখলের অভিযোগ, ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে অপপ্রচারের দাবি


Splash Image

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের উলুবুনিয়া নদী ভরাট করে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর দুই পাশের জমি দখল করে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের গড়ে তোলা হলেও সম্প্রতি এই নদী ও জমি গ্রাস নিয়ে এলাকায় নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এদিকে, নদী দখলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলুবুনিয়া নদীর পশ্চিম পাশে পুটিমারী মৌজায় প্রায় ৫২ একর ভিপি (ভেস্টেড প্রোপার্টি) সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহু বছর আগে সরকারের কাছ থেকে ডিসিআর নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে তারা সেখানে কৃষিকাজ ও মৎস্যচাষও করে আসছেন।

কাগজপত্রের তথ্য ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, উলুবুনিয়া নদীর পশ্চিম পাশে এসএ ৪২ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে থাকা ৫২ একর ভিপি সম্পত্তির মধ্যে— আমানুর রহমান ৫ একর, গনি সরদার ৫ একর, রণজিৎ দে ৫ একর, আকু গং ১১ একর, মিরাজুল ইসলাম ও ইকবালসহ কয়েকজন প্রায় ১৭ একর, সুদীপ্ত ৩ একর, লুৎফর ১ একর ৫০ শতক এবং প্রশান্ত মণ্ডল প্রায় ২ বিঘা জমির ডিসিআর নিয়ে ভোগদখলে রয়েছেন।

লতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য (মেম্বার) কুমারেশ মণ্ডল বলেন, "আমার জন্মের আগেই আমার বাবা-মা ওই এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ করে আইনগতভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে নদীর পূর্ব পাশের অবৈধ দখলদারদের আড়াল করে আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।"

তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "নদীর পশ্চিম পাশের পুটিমারী এলাকার ডিসিআরপ্রাপ্ত বৈধ জমিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে একটি চক্র নদীর পূর্ব পাশে প্রায় ৫৪ একর সরকারি জমি ভরাট করে জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে। সেখানে রাতারাতি পাকা ভবন নির্মাণের পাশাপাশি কৃষিজমি ও বড় বড় চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে।" কুমারেশ মণ্ডলের দাবি— নদী ও খাস জমি দখলকারীদের মধ্যে তপন দাস, শিবপদ মণ্ডল, মোতালেব সানা, আজিজ সরদার ও সাবেক ইউপি সদস্য আকরাম সরদারসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক উলুবুনিয়া নদী ভরাট ও অবৈধ দখলের কারণে নদীর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ এবং প্রশস্ততা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পরিবেশের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে, যার কারণে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ কৃষকরা।

নদী ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী বলেন, "আমি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল একবার পরিদর্শন করেছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও খুব দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি নদী ও খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...