Logo Logo

সাতক্ষীরায় সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার


Splash Image

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলপোতা গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর আব্দুর রহমান (১৪) নামে এক কিশোরের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পে নিহতের নিজস্ব বসতঘরের পেছন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং সে পরিবারের সাথে আবাসন প্রকল্পেই বসবাস করত।


বিজ্ঞাপন


পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার থেকে কিশোর আব্দুর রহমান হঠাৎ করেই নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের পেছনেই তার লাশ পড়ে থাকায় এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পে তাদের বসতঘরের ঠিক পেছনে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। কাছে গিয়ে তারা নিখোঁজ আব্দুর রহমানের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর অপরাধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে নিখোঁজ হওয়া এবং নিজ বাড়ির আঙিনা বা পেছন থেকে লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি কোনো পরিকল্পিত অপরাধের অংশ কিনা, তা নিয়ে স্থানীয়রা গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় পুরো কুলপোতা গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা অপরাধ লুকিয়ে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...