বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ জুলাই) সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশাল সফরে এসে তিনি নগরীর সাগরদী ও ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন খালপাড়ে চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় খালের অপর প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে বরিশাল আসার পথে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীর বাটাজোড় ইউনিয়নের পুনঃখননকৃত বাটাজোড়-সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সেখানে খালের পাশের খালি জায়গায় তিনি নিজ হাতে নারিকেল, ঐতিহ্যবাহী আমড়া ও নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল জেলায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। এর আগে চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে একটি বিশাল জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন।
বাটাজোড়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "এদেশ আমাদের সকলের। আমরা সব শ্রেণী, পেশা ও ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে এ দেশকে সুন্দরভাবে সাজাতে চাই। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন ভালো থাকতে পারে, সেটাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।" তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে সম্মিলিতভাবে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
পরিবেশ সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। একই সাথে রোপিত চারা গাছটি পূর্ণাঙ্গভাবে বড় না হওয়া পর্যন্ত যার যার অবস্থান থেকে সেটির সঠিক যত্ন নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "গাছ শুধু লাগিয়ে রাখলেই হবে না; প্রতিটি চারা গাছ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটির যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লক্ষ পরিবারের মাঝে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই কার্ডের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে, ইনশাআল্লাহ।
দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে যদি প্রকৃত অর্থে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, তবে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারীদের উচ্চশিক্ষা তথা অনার্স ও ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক (ফ্রি) করার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে এক অভূতপূর্ব জাগরণ দেখা গেছে। গৌরনদী থেকে বরিশাল নগরী পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাত নেড়ে সরকারপ্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সফরসূচি অনুযায়ী, পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।
প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...