ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন ‘হাই-টি ডিপার্টমেন্ট’। খবর বিবিসির।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, “সৈন্যরা যাতে একেবারে সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য সঠিক মাত্রার টেস্টোস্টেরন বজায় রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই পরীক্ষা কর্মসূচি অনুমোদন করছেন।”
পরীক্ষায় যেসব সৈন্যের শরীরে এই পুরুষ হরমোনের ঘাটতি পাওয়া যাবে, তাদের সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক ভিত্তিতে ‘হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি’ দেওয়া হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক হবে।
বুধবারের ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, “আমাদের যোদ্ধাদের বিশ্বের সেরা চিকিৎসা সেবা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব এবং এই কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করছে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আপনার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার অর্থ হলো আপনি যেন শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক এবং সক্ষম থাকেন- তা কেবল আপনার পরবর্তী মোতায়েনের জন্যই নয়, বরং আপনার বাকি জীবনের জন্যও, যাতে ইউনিফর্ম খুলে ফেলার পরও আপনি দীর্ঘদিন সুস্থ ও ভালো থাকতে পারেন।”
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কৃত্রিমভাবে পেশি বাড়ানোর মতো অ-চিকিৎসাগত কারণে সামরিক বাহিনীতে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হেগসেথ ভিডিওতে উল্লেখ করেন যে, এই নতুন কর্মসূচিটি ‘কৃত্রিমভাবে শক্তি বৃদ্ধির জন্য নয়’।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল সক্রিয় এবং রিজার্ভ-এর কর্মীর জন্য টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি পরীক্ষা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়াটি সামরিক বিভাগকে একটি সামগ্রিক বেসলাইন তৈরি করতে ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক টেস্টোস্টেরন থেরাপি প্রদানের সুযোগ দেবে। এর ফলে একটি সুস্থ, সক্ষম এবং চূড়ান্তভাবে আধিপত্য বিস্তারকারী যুদ্ধশক্তি বজায় রাখা নিশ্চিত হবে।”
তবে এই পরীক্ষা নারী স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না কিংবা পেরিমেনোপজে থাকা নারী সৈন্যদের ইস্ট্রোজেন থেরাপির সুযোগ দেওয়া হবে কি না- সে বিষয়ে পেন্টাগন সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগনের নতুন এই নীতিমালার সমালোচনা করে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য ক্রিসি হুলাহান এটিকে হেগসেথের ‘সর্বশেষ সংস্কৃতি যুদ্ধ বাতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই এই হরমোন পরীক্ষা সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সাবেক প্রধান ডা. মোহিত খেরা পেন্টাগনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিবিসিকে বলেন, “৩০ বছরের বেশি বয়সী সকল পুরুষেরই এই পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ এটি একজন মানুষের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান সূচক।”
বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ইউরোলজির অধ্যাপক খেরা বলেন, “এখানে মূল বিষয় হলো, অনেক তরুণ পুরুষের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে, যা পেশির ভর ও শক্তির ক্ষেত্রে তাদের পিছিয়ে দেয়। আপনি যখন যুদ্ধে থাকবেন, তখন এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “কারো শরীরে লক্ষণ বা উপসর্গ না থাকলে তাকে সরাসরি টেস্টোস্টেরন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।”
তিনি জানান, হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপির সুবিধার মধ্যে রয়েছে পেশির ভর বৃদ্ধি, চর্বি জমা হওয়া হ্রাস ও বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমে যাওয়া। খেরা আরো জানান, সময়ের সাথে সাথে এটি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে আরো বলেন, এটি সবার জন্য নয়।
খেরা বলেন, “তরুণরা যদি টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করে, তাহলে এটি তাদের বন্ধ্যা করে দিতে পারে। আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি সন্তান জন্মদানের বয়সে থাকে, তাহলে তাদের এটি নিশ্চিতভাবে বুঝতে হবে যে এর ফলে তারা বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসন দেশটির ‘প্রজনন সংকট’ কাটাতে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের ওপর থেকে আইনি বাধা শিথিল করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, পেন্টাগনের এই নতুন পদক্ষেপকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...