বিজ্ঞাপন
ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, নলছিটি দেওয়ানী আদালতের বিচারক মো. হাবিবুর রহমান ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর সর্বশেষ বিচার কার্য পরিচালনা করেছেন। এরপর তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় ৯ মাস ধরে এই আদালতের বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে।
অপরদিকে কাঁঠালিয়া দেওয়ানী আদালতের বিচারক রানা পারভেজ গত জানুয়ারি মাস থেকে ঢাকায় তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে রাজাপুর দেওয়ানী আদালতে যোগদান করেন। সেই জানুয়ারি মাস থেকে ৭ মাস ধরে কাঁঠালিয়া দেওয়ানী আদালতের বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে ঝালকাঠি সদরের সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. আরিফ হোসেন নলছিটি দেওয়ানী আদালতের অতিরিক্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অপরদিকে রাজাপুর সিভিল জজ আদালতের বিচারক রানা পারভেজ কাঁঠালিয়া দেওয়ানী আদালতের অতিরিক্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁরা নলছিটি ও কাঠালিয়ার বিচারপ্রার্থীদের জরুরি কোনো দরখাস্তের শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী একজন বিচারকের প্রতি মাসে ছয়টি মামলা নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক। তাঁদের নিয়মিত আদালতের বিচার কার্যক্রমের চাপ সামলিয়ে নলছিটি ও কাঠালিয়া আদালতের অতিরিক্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। ফলে এ দুটি আদালতের কোনো মামলার সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক শুনানি না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে সরকার আলাদা পারিবারিক আদালত গঠন করলেও ঝালকাঠিতে এ আদালতে কোনো বিচারক নিয়োগ করা হয়নি। রাজাপুর সিভিল জজ আদালতের বিচারক রানা পারভেজ পারিবারিক আদালতের অতিরিক্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অপরদিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধিকাংশ বিচারকের পদ শূন্য। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন কবির ভাগাভাগি করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন নিজের আদালত ব্যতিত ঝালকাঠি সদর ও নলছিটির সকল আমলী ও বিচারিক আদালতের মামলা কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন কবির নিজের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদালত ব্যতিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম ও ২য় আদালত, রাজাপুর ও কাঠালিয়া আদালতের অতিরিক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এখানে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় এসব আদালতের কোনো মামলার সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক শুনানি না হওয়ায় মামলার জট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইমাম হোসেন (৫২) নামে এক বিচারপ্রার্থী বলেন, “পাঁচ বছর ধরে আমাদের পারিবারিক জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। বিচারক সংকটের কারণে মামলার কার্যক্রম সামনে অগ্রসর হচ্ছে না। এতে আমাদের অর্থ ও সময়—দুটোই নষ্ট হচ্ছে।”
ঝালকাঠি প্রতিবাদী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত হরি বলেন, “দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগ দিয়ে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মামলার জট আরও বাড়বে এবং ন্যায়বিচার পেতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।”
ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আকন আদালতের বরাত দিয়ে বলেন, “বিচারক সংকটের কারণে প্রতিদিন নির্ধারিত সংখ্যক মামলার শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষকে বারবার আদালতে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বিচারক সংকটের বিষয়টি মাননীয় জেলা জজের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি বিষয়টি অচিরেই সমাধান হবে।”
বিচার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালতে বিচারকের পদ শূন্য থাকায় মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। তাই দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...