Logo Logo

উইপোকায় খাওয়া বা পোড়া টাকা কি বদলানো সম্ভব?


Splash Image

ছবি : সামাজিক মাধ্যম হতে সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতা কিংবা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নগদ টাকা বা ব্যাংকনোট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সম্প্রতি বাসায় জমে রাখা সঞ্চিত টাকা উইপোকায় খাওয়া, আগুনে পুড়ে যাওয়া কিংবা স্যাঁতসেঁতে হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


বিজ্ঞাপন


অনেকেই তথ্য না জানার কারণে এসব ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাতিল মনে করে ফেলে দেন এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত টাকা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে আবেদন করলে এসব টাকার পূর্ণ বা আংশিক বিনিময় মূল্য ফেরত পাওয়া সম্ভব।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে উইপোকায় খাওয়া, অতিরিক্ত ছেঁড়া কিংবা আগুনে ঝলসানো নোটকে 'অপ্রচলনযোগ্য নোট' (Unserviceable Note) হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই সাধারণ বাজার লেনদেনে বা কেনাকাটায় এসব টাকা দোকানদাররা নিতে বাধ্য নন। তবে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশন্স’-এর সুনির্দিষ্ট অনুপাত অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত নোটের অবশিষ্ট অংশের ওপর ভিত্তি করে বিনিময় মূল্য পরিশোধ করা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে— কোনো নোটের উইপোকায় খাওয়া বা ক্ষতির পরিমাণ এমন হয় যে তার ৯০ শতাংশের বেশি অংশ বিদ্যমান রয়েছে, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ (১০০%) বিনিময় মূল্য পাওয়া যাবে। আবার নোটের ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ অক্ষত থাকলে মোট মূল্যমানের ৭৫ শতাংশ এবং ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশ অংশ টিকে থাকলে মূল অঙ্কের ৫০ শতাংশ টাকা ফেরত প্রদান করে ব্যাংক। তবে উইপোকায় কেটে গিয়ে বা পুড়ে নোটের পরিমাণ ৫১ শতাংশের কম হয়ে গেলে আইন অনুযায়ী তার কোনো বিনিময় মূল্য পাওয়া যায় না। যা সর্বক্ষেত্রে বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

উইপোকায় খাওয়া বা আগুনে পোড়া নোটগুলোর সঠিক পরিমাপ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় বলে এগুলো ব্যাংক কাউন্টারে সরাসরি বদল করা সবসময় সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত নোটটি সতর্কতার সঙ্গে কোনো সমতল কাগজ বা বাক্সে সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকে ‘দাবিযোগ্য নোট’ (Claimable Note) হিসেবে আবেদন করলে ব্যাংক তা নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠায়। তবে বড় অঙ্কের ক্ষতি কিংবা আগুনে ব্যাপকভাবে বিকৃত টাকার ক্ষেত্রে মতিঝিল,চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখা অফিসে সরাসরি গিয়ে রিফান্ড কাউন্টারে আবেদন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আগুনে পোড়া নোটের বেলায় আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, স্থানীয় থানার জিডি কপি এবং জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা রোধেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। জালিয়াতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, দুইটি ভিন্ন ভিন্ন নোটের অংশ কেটে জোড়া দিয়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করলে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে নোট বিকৃত করলে তার বিনিময়ে কোনো টাকা প্রদান করা হবে না, এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে সাধারণ সঞ্চয়ীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে— অনানুষ্ঠানিক উপায়ে ঘরে নগদ টাকা ফেলে না রেখে ব্যাংকে রাখা যেমন নিরাপদ, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি পথ অনুসরণ করা উচিত।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...