বিজ্ঞাপন
গত শনিবার (৮ আগস্ট) আনুমানিক শেষ রাত ৩টার দিকে মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জ হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুম হাওলাদার ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দূরপাল্লার মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং রাতের বেলায় দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের অপ্রতিরোধ্য বেপরোয়া গতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে ছাগলনাইয়ার মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে মাসুমের চালিত প্রাইভেটকারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। মহাসড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মাসুম তা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটির চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাহসিকতার সঙ্গে চালক মাসুম পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটিকে থামাতে ও চালককে আটকাতে দৌড়ে গিয়ে ট্রাকে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে চলন্ত ট্রাকের সঙ্গে সামলাতে না পেরে তিনি একপর্যায়ে ছিটকে মহাসড়কের ওপর পড়ে যান এবং ওই ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর করুণ মৃত্যু হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে মাঝরাতেই দ্রুতগতির পণ্যবাহী যানবাহনের অসাবধানতার কারণে নিয়মিতই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান পথচারী ও স্থানীয়রা।
খবর পাওয়ার পরপরই মুহুরীগঞ্জ হাইওয়ে থানা ও ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের যৌথ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহত মাসুমের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বা পুলিশ বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘাতক ট্রাক ও তার চালককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...