বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদালতের রায়ে বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অপরদিকে, দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের অধীনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। এসব অপরাধের মধ্যে শিশুদের ওপর দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে।
আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই অঞ্চলে বিদ্রোহ দমনে ব্যাপক দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আদালত জানিয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য পর্যায়ের নির্যাতন চালিয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আদালত তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে বাশার আল-আসাদ তার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া ছেড়ে মস্কোতে পালিয়ে যান। তবে আতেফ নাজিব দেশ ছাড়তে পারেননি। পরে তাকে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়।
আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে এটি প্রথম কোনো আদালতের রায়। হাফেজ আল-আসাদের পর তার ছেলে বাশার আল-আসাদসহ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আসাদ পরিবার সিরিয়া শাসন করেছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার সিরিয়াজুড়ে আসাদ পরিবারের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সেই বিদ্রোহ দীর্ঘ ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ভয়াবহ ওই সংঘাতে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...