বিজ্ঞাপন
দুইজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে মামলার অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২য় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তৌহিদুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের ভয়াবহ ইতিহাস:
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল। সেদিন বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু'পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রতিপক্ষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই সেতারা বেগম ও খলিল নামের দুইজন মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। শুধু তা-ই নয়, সেই হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। দীর্ঘ ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন সেই আহত পাঁচজন ব্যক্তি আজও পঙ্গুত্ব ও নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায়:
ঐতিহাসিক এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের স্বজন আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর নম্বর: ৪৯৯/১৩) দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম, নিরপেক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে আদালত চূড়ান্ত এই রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, "দীর্ঘদিন পর হলেও জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি সবুজের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমরা এতে সন্তুষ্ট।"
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) আপিল করবেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...