বিজ্ঞাপন
গত ১৯ জুলাই উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত করার উদ্যোগ নেন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত। এর অংশ হিসেবে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে সমন্বিতভাবে ক্লাস, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয় ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সেশনজটের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষক সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য। পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী অডিটোরিয়াম না থাকায় সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনকে। এ সমস্যা সমাধানে স্পেস বরাদ্দ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য। বৈঠকের পর ক্যাম্পাসে সাময়িকভাবে একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে স্থায়ী অডিটোরিয়ামের বিকল্প হিসেবে প্রায় ১৫০ আসনবিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতেও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ফাইল যেন অযথা কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টেবিলে পড়ে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ফাইল নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্টেট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে গোবিপ্রবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সেশনজটমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...