বিজ্ঞাপন
পুলিশ সদর দপ্তর ও র্যাবের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সারাদেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি এবং রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি মামলা নথিবদ্ধ করা হয়।
তদন্ত শেষে ১৪২টি মামলায় ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। মোট ৯৬১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা মিললেও আসামি শনাক্ত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫৯টি মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৯৪টি মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। রায়ে ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয় এবং ইতোমধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩৪৯ জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, ৩৫৮ জন খালাস পেয়েছেন এবং ১৩৩ জন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এখনও ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ৩৮৬ জন। এ ছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলা বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সিরিজ বোমা হামলার পর ২০০৫ সালজুড়েই দেশে একাধিক ধারাবাহিক হামলা চালায় জঙ্গিরা, যাতে বিচারক ও আইনজীবীসহ আরও ৩০ জন নিহত এবং ৪ শতাধিক মানুষ আহত হন। একই বছরের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে বোমাবাজিতে ৩ জন নিহত এবং বিচারকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর হামলায় তিনি ও তার গাড়িচালক আহত হন।
১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জেলা জজ আদালতের দুই বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহম্মদ নিহত হন। পরবর্তীতে ঝালকাঠির এই দুই বিচারক হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ ছয় নেতা—শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে এক আত্মঘাতী জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। একই দিনে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে জেএমবির আত্মঘাতী হামলায় পুলিশ কনস্টেবল রাজিব বড়ুয়াসহ ২ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হন।
পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে বোমা হামলায় কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম নিহত এবং ৪০ জন আহত হন। ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনার বড় পুকুর পাড়ে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ের সামনে আত্মঘাতী হামলায় সংগঠনটির দুই নেতাসহ ৮ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...