বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কীর্তিবাসদী গ্রামের নিজ বাড়ির দক্ষিণ ভিটির গোয়ালঘরে আকাশ মিয়াকে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না। পরবর্তীতে নিহতের মা ফিরোজা খাতুন বাড়িতে ফিরে গোয়ালঘরে ছেলেকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকাশের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা ফিরোজা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মনোহরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের বাবা আতাউর রহমান মিস্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজ ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত আকাশ মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। সম্প্রতি আতাউর রহমান তাঁর ছোট মেয়েকে কিছু টাকা ধার দেন। সেই টাকা ফেরত নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার ঠিক আগে বাবা ও ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আকাশ তাঁর বাবা ও বোনকে নিয়ে এলাকায় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান আতাউর রহমান।
পুলিশ আরও জানায়, ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘুমন্ত আকাশকে ঘরের কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বাবা আতাউর রহমান।
তদন্তের একপর্যায়ে আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আতাউর রহমান মিস্ত্রী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশাহ জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...