বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তের মধ্যে চোখের পলকে শত শত ঘরবাড়ি ভেসে যায়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে পরিচালিত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও এই আকস্মিক বন্যার তীব্র স্রোতে সম্পূর্ণ ভেসে গেছে বলে জানা গেছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাহাড়ি নদী ‘ভোতিকোশি’র পানি মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়ে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাসুয়া জেলার তিমুর এবং পার্শ্ববর্তী সায়াফুরবাসি এলাকায় বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার তীব্র পানিতে অসংখ্য যানবাহন, মালামাল এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ প্লাবিত ও ভেসে গেছে।
দুর্গতদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে দ্রুত সেনা ও উদ্ধারকারী টিম পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা ত্বরান্বিত করতে নেপাল সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই ১৪টি বিশেষ হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। উদ্ধার অভিযান চলাকালেই পুলিশ ও সেনাসদস্যদের মধ্যে ৩২ জন সদস্য নিখোঁজ হয়ে যান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে, আকস্মিক এ ঘটনায় নিখোঁজ ৩৮৪ জন পর্যটকের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের তিব্বত অংশের ভোতিকোশি নদীতে এক বিশাল ভূমিধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে জমে থাকা পানির বিপুল চাপ এবং প্রবল পাহাড়ি ঢল একসাথে যুক্ত হওয়ায় নদীটি উপচে পড়ে এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বন্যাকবলিত উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ শক্তিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...