বিজ্ঞাপন
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে এনআরএফ। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হোদেইদা শহরে হুথিদের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত বিশেষ প্রতিরোধমূলক অভিযানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে সরকারি বাহিনীর এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হুথি বিদ্রোহীদের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে উদ্ধার করতে মঙ্গলবার হোদেইদায় ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সেই নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পরিষদ সভায় এ সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত বৈঠকে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের পর প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার, সমগ্র জাতীয় ভূখণ্ডের ওপর সরকারি কর্তৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা এবং ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী মিলিশিয়া হুথিদের দ্বারা সৃষ্ট দীর্ঘদিনের মানবিক দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নেয়। হুথিরা রাজধানী দখল করলে ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি প্রাণ বাঁচাতে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বাধীন বৈধ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক অঞ্চল হুথি গোষ্ঠীর অধীনে এবং বাকি অর্ধেক সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার মূলত সৌদি সামরিক শক্তির সহায়তায় নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় সমগ্র ইয়েমেন হুথিদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যেত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
পরস্পরের প্রতি চরম বৈরী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে সৌদি আরব এবং হুথি গোষ্ঠী এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর পর থেকে উভয়পক্ষ মোটা দাগে সংঘাত এড়িয়ে চললেও সম্প্রতি সানার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়েতে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার সেই হামলার দায় স্বীকার করার পর থেকে পুনরায় সৌদি জোট ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...