বিজ্ঞাপন
অভিযোগের ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয় ও মুমিনের বাড়ি পরিদর্শন করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে মুমিনকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করে সে ও তার স্বজনরা। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে যশোরে সিটি স্ক্যান করানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুমিনের বাবা মারা গেছেন। তার মা অন্যত্র বিয়ে করায় ছোটবেলা থেকেই সে দাদির কাছে বড় হচ্ছে। ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনায় তার মাথায় ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই সে শারীরিকভাবে দুর্বল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মুমিনের অভিযোগ, ১৯ আগস্ট সকালে পাশের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। বিষয়টি দেখতে সেখানে গেলে শিক্ষকরা তাকে ধরে একটি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম এবং সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেন তাকে মারধর করেন। এ সময় দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত, চুল ধরে টানা এবং বেত দিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করে মুমিন।
তার ভাষ্য, মারধরের পর মাথায় তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না সে। কিছুক্ষণ পরপর অচেতন হয়ে পড়া ও বমি করার পর তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক দ্রুত সিটি স্ক্যানের জন্য যশোরে পাঠান।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই সহকারী শিক্ষক। নুরুজ্জামান নান্নু বলেন, সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করছে—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। মুমিনসহ ছয়-সাতজন শিক্ষার্থীকে পেয়ে তাদের সরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের জানিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সহকারী শিক্ষক ইসরাফিল হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুমিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছিল। পরে তাদের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয় এবং অভিভাবকরা দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সময় মুমিনের সঙ্গে থাকা সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অবশ্য দাবি করেছে, মারামারির পর শিক্ষকরা তাদের ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে সবাইকে মারধর করেন। তবে মুমিনকে তুলনামূলক কম মারধর করা হয় বলে জানায় ওই শিক্ষার্থী।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমিনকে দেখতে যান নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবির। তারা তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার বিষয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।
ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান। সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সজল বিশ্বাস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার এবং নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। ঘটনাস্থল ও ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...