বিজ্ঞাপন
সনেকা রায় নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শহরের আনন্দ বাবুর ব্রিজ এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। দৈনিক ভোরের বাণীকে তিনি জানান, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে শহরের বড় বাজারের মাছের আড়তে যান। সেখান থেকে রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাইকারি দামে কিনে নেন। পরে সেসব মাছের ভারী ঝুড়ি মাথায় তুলে শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও গ্রামের বাসাবাড়িতে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করেন।
জীবনের এই কঠিন পথচলার শুরু স্বামী পোশেন রায়ের অকাল মৃত্যুর পর। জীবনসঙ্গীকে হারানোর শোক বুকে ধারণ করেই নিজের অন্নসংস্থানের জন্য মাছ বিক্রির পেশাকে বেছে নেন সনেকা। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২০ বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে দারিদ্র্য, একাকিত্ব ও নানা প্রতিকূলতা তার পথের সঙ্গী হলেও জীবিকার সংগ্রাম থেকে কখনো পিছু হটেননি তিনি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি কমেছে। আগের মতো দীর্ঘ পথ হাঁটা কিংবা মাথায় ভারী ঝুড়ি বহন করাও এখন তার জন্য সহজ নয়। তবুও পেটের দায়ে প্রতিদিন ভোরে ঘর থেকে বের হতে হয়। মাথায় মাছের ঝুড়ি নিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ক্রেতাদের কাছে মাছ পৌঁছে দেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সনেকা রায় টুপামারী এলাকার পরিচিত ও পরিশ্রমী একজন নারী। দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তার কর্মনিষ্ঠা ও আত্মনির্ভরতার চেষ্টা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।
৬১ বছর বয়সেও জীবিকার জন্য প্রতিদিনের এই সংগ্রাম যেন সনেকা রায়ের কাছে জীবনেরই আরেক নাম। স্বামীর মৃত্যুর পর একাকিত্বকে সঙ্গী করে মাথায় মাছের ঝুড়ি নিয়ে তার নিরন্তর পথচলা প্রমাণ করে—জীবন যত কঠিনই হোক, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ কতটা দৃঢ় হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...