Logo Logo

মুকসুদপুরের সন্তান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাব্বত জান চৌধুরীর ইন্তেকাল


Splash Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার খাঁনপুর জমিদার পরিবারের সন্তান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাব্বত জান চৌধুরী (৯২) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মেজর জেনারেল মোহাব্বত জান চৌধুরী তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার খাঁনপুরের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সাঈদ জান চৌধুরী ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি ১৯৮৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দাদা রহমত জান চৌধুরী ছিলেন খানপুর জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর পরদাদা আহমদ জান চৌধুরী ছিলেন পাবনা জেলার দুলাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিখ্যাত জমিদার আজিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। এই পরিবারের পূর্বপুরুষ শরফুদ্দীন সরকার তুর্কিস্তানের সমরকন্দ থেকে বাংলায় এসে পাবনার দুলাইয়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন। পরদাদা আহমদ জান চৌধুরীর অকাল মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সন্তান রহমত জান চৌধুরীকে নিয়ে নিজের পৈতৃক নিবাস খানপুরে চলে আসেন। এ ছাড়া মোহাব্বত জান চৌধুরীর মা ছিলেন বরিশালের উলানিয়া জমিদার বাড়ির অন্যতম সাহেবজাদি।

তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি স্টাফ সদর দফতর ও মিলিটারি ট্রেনিং স্কুলসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সে (আইএসআই) কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বর্তমানে বিজিবি) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কর্পসের পরিচালক ও মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৮০ সালে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (MIDAS)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যবসা ক্ষেত্রে তিনি ডাইনামিক কমিউনিকেশনস ও ট্রাস্ট নিটওয়্যারের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই ১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। তিনি ১৯৮২ সালের জুলাই থেকে ১৯৮৩ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী, সংস্থাপন মন্ত্রী এবং খাদ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...