বিজ্ঞাপন
জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তার সঙ্গে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ।
জুলুসটি মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, জশনে জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় জড়ো হন তারা। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।
আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের জুলুসে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। তাদের ভাষ্য, শান্তি, মানবতা, অহিংসা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন।
জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় সাজানো হয়েছে। ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে নানা আকৃতির তোরণ। জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগারও স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে আঞ্জুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাইব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ধরায় আগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল বা জশনে জুলুস উদযাপন একটি সুন্নত ও অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। কোটি কোটি আশেকে রাসুল ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের সঙ্গে এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তবে একশ্রেণির মানুষ অহেতুক এর বিরোধিতা করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো ঈমানদার ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর জন্মের খুশিতে আয়োজিত শোভাযাত্রার বিরোধিতা করতে পারেন না।
জশনে জুলুসের পরিধি ও তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর চট্টগ্রামে আয়োজিত এ জুলুসে পবিত্র ও তরিকতভিত্তিক পরিবেশ বজায় রেখে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম এই ধর্মীয় শোভাযাত্রা বাংলাদেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এমন ইতিবাচক ও আধ্যাত্মিক আয়োজনের বিরুদ্ধে কটূক্তি বা অপপ্রচার চালানো সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জশনে জুলুসের মতো বড় সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের বড় দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও সততার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...