৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখে তুরস্কের আঙ্কারার বেস্তেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার (বাঁ দিকে) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: এএফপি
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড থেকে সিরীয় সরকার সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটির স্বীকৃতিস্বরূপই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে স্বাগত জানিয়েছে। অথচ একসময় আল-কায়েদার একটি শাখা সংগঠনের প্রধান থাকা এই সাবেক সশস্ত্র নেতার মাথার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
তার দল ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’কেও (এইচটিএস) যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পূর্বে ‘আল-নুসরা ফ্রন্ট’ নামে পরিচিত এইচটিএস ছিল সিরিয়ায় আল-কায়েদার অনুগত একটি শাখা। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আল-শারা এই জিহাদি নেওয়ার্টের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
২০২৪ সালের শেষের দিকে শারার নেতৃত্বাধীন এইচটিএস বিদ্রোহী অভিযানের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটায়। বর্তমানে শারার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনে এইচটিএস-এর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, সিরিয়াকে রাশিয়া বা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়তে না দিয়ে নিজেদের প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসা। তবে দেশটির পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি সুরক্ষিত নয় এবং কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠিত না হওয়ায় এতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েই গেছে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রেও রয়েছে সিরিয়া।
মঙ্গলবারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন- যা জুলাইয়ে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল- এটি সিরিয়ার জন্য ‘সমৃদ্ধির পথ’ খুলে দেবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, “আজকের এই পদক্ষেপ সিরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত বিনিয়োগে সহায়ক হবে।”
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা’র তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি এই খবরকে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্নতার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এবং স্বচ্ছতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে একটি পরিবেশ তৈরি করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএস-এর ওপর থেকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’-এর তকমা প্রত্যাহার করে নেয় এবং শারার নামও ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’র তালিকা থেকে বাদ দেয়।
১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় থাকা সিরিয়াকে বাদ দেওয়ায় এখন মাত্র তিনটি দেশ এতে অবশিষ্ট রইল: কিউবা, উত্তর কোরিয়া এবং ইরান।
এই তালিকায় থাকার অর্থ হলো কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন বৈদেশিক সাহায্য এবং প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি ও বিক্রয়ে কড়াকড়ি। এমনকি যেসব ব্যক্তি বা অন্য দেশ এই তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করে, তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...