Logo Logo

অনাবৃষ্টি, সারের সংকট ও ধানের দাম নিয়ে শঙ্কায় নীলফামারীর আমন চাষিরা


Splash Image

উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডারখ্যাত নীলফামারীতে চলতি আমন মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় একদিকে যেমন বাড়তি খরচ করে সেচ দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে রাসায়নিক সারের সংকট ও চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন তারা। এর সঙ্গে ধান কাটার পর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পানি, সার ও বাজারমূল্য—এই ত্রিমুখী চাপে জেলার ছয় উপজেলার হাজার হাজার আমন চাষি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।


বিজ্ঞাপন


চলতি মৌসুমে নীলফামারীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রোপণ করা আমনের চারা বাঁচিয়ে রাখতে সেচ পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে ডিজেল ও বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে গিয়ে বেড়ে গেছে উৎপাদন ব্যয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ফলে রোপণ করা চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে বেড়েছে কীটনাশকের দামও।

সেচ সংকটের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশ সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই খোলা বাজার থেকে বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আমন চাষের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

নীলফামারী সদর উপজেলার কৃষক জাহানুর ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই সেচের পেছনে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এর ওপর সারের ডিলার পয়েন্টে গিয়েও প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না।’ এর মধ্যে জেলা জুড়ে ঘনঘন লোডশেডিং ও প্রিপেইড মিটারের কারণে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকদের আরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

কৃষকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন ধানের বাজারমূল্য নিয়ে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসল ঘরে তোলার পর ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর আমন মৌসুমে ধানের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দাম কমে যায়। তখন মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম থেকে বঞ্চিত হন।

সদরের আমনচাষি ছলেমান মিয়া বলেন, চলতি আমন চাষাবাদ বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পাট বিক্রি করে আমন চাষের খরচ জোগানোর পরিকল্পনা থাকলেও পাট চাষে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেই অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে অনেকটা বাকিতে আমন চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আগামীতে আমনের ফলন কেমন হবে, তা নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সম্পূরক সেচ চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

তবে কৃষকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে এখনো সেই পরিস্থিতির প্রতিফলন নেই। দ্রুত সারের কৃত্রিম সংকট দূর, সেচ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ধানের বাজারে কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা না হলে চলতি মৌসুমে কৃষকদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে নীলফামারীর কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...