বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পৌর শহরের জনপ্রিয় পানসী রেস্টুরেন্টে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসির মিয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামুদারতপি গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে। পুলিশের দাবি, আসির একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামুদারতপি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে আটক করে পুলিশ। আটকের পরপরই তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আসিরের স্বজন ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ধস্তাধস্তির সময় হ্যান্ডকাফের একটি অংশ ভেঙে গেলেও বাকি অংশটি আসিরের হাতেই আটকে থাকে।
পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি আরও নাটকীয় রূপ নেয়। আসির মিয়া নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। সেই ভিডিওতে তার হাতে ঝুলন্ত হ্যান্ডকাফ স্পষ্ট দেখা যায় এবং তিনি পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে আসার বিষয়টি প্রকাশ্যে প্রচার করেন। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে এসে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ফেসবুক লাইভ পুরো সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় আসামিকে পুনরায় ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। সম্ভাব্য সব আস্তানায় নজরদারি জোরদার করে জেলা পুলিশ ও ডিবি। বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখের নেতৃত্বে ডিবি ও সদর থানার একটি চৌকস দল পৌর শহরের পানসী রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে আসিরকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানে অংশ নেন ডিবি শাখার এসআই মাহমুদুল হাসান, এসআই মুকুল খান, এএসআই খাদেম, এএসআই রোশন এবং সদর থানার এসআই জহির হোসেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত কৌশল অবলম্বন করে রেস্টুরেন্ট থেকে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মূল আসামি দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...