Logo Logo

টুঙ্গিপাড়ায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা, স্কুলছাত্রের মৃত্যু


Splash Image

খালাবাড়িতে আনন্দ-উল্লাসে বেড়াতে এসে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় অকালে নিভে গেল এক স্কুলছাত্রের প্রাণ। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আল রাফি (১৪) নামের এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই আরোহীও গুরুতর আহত হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আল রাফি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আল আমিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগেই সে টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিন তরুণ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মোড় এলাকা থেকে বেপরোয়া গতিতে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে পৌঁছালে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই মোটরসাইকেলটি ছিটকে গিয়ে সড়কের পাশের রেলিংয়ে প্রচণ্ড শক্তিতে সজোরে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা দ্রুত গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আল রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই আরোহীর শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। গোপালগঞ্জ থেকে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, অতিরিক্ত গতির কারণেই মূলত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

বেপরোয়া গতিতে উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত এমন তাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...