বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে বানিয়ারচর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থানে পাকা ও আধা-পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই কোনো বৈধ অনুমোদন নেই, এমনকি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্রেও রয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, ‘সম্প্রীতি ফাউন্ডেশন’-এর নামে সভা রঞ্জন সিকদার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এক বিঘারও বেশি সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একই এলাকায় সুমন বিশ্বাস নামে অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল ও অনুমোদনহীনভাবে স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মিল্টন নামে এক ব্যক্তি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ও নিয়মনীতি না মেনেই একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সরকারি জমি দখলের পাশাপাশি এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে একটি করাতকল। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ভেতরে করাতকলটি দিনরাত পুরোদমে চালু রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, করাতকলটির বন বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ ছাড়পত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে। দিনভর করাতকলের তীব্র শব্দ ও কাঠের গুঁড়োর কারণে আশপাশের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চোখের সামনে সরকারি জমিতে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা এবং পরিবেশ বিধ্বংসী করাতকল চালানো হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই নীরবতায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। দ্রুত সরেজমিন পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি জমির প্রকৃত সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন করাতকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...