বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বার্তা তুলে ধরে ট্রাম্পের প্রকাশিত পোস্টগুলোতে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার দৃশ্য, দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি এবং ট্রাম্পের মুখের অবয়বের আদলে তৈরি ইরানের মানচিত্র দেখা যায়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, অস্থিতিশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। সংঘাতের আগে এর পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধের জবাবে ইরান বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সচল রাখাকে যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে পরিণত করে।
ট্রাম্পের শেয়ার করা অন্যান্য এআই-নির্ভর ছবিতে দাবি করা হয়, ইরানের তেল রপ্তানি ধসে পড়ছে, দেশটিতে অতি-মুদ্রাস্ফীতি চলছে এবং দেশটির মুদ্রার মূল্য ব্যাপকভাবে কমে গেছে। একটি ছবিতে দেখানো হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে যেখানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ, সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে ডলারে ২২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি হয়েছে।
অন্য একটি পোস্টে ইরানের মানচিত্রের ওপর ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের পাশের অংশের প্রতিচ্ছবি বসানো হয়। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ব্যক্তিগত আক্রমণের সুর ক্রমেই বাড়ছে—এমন বার্তাই ফুটে ওঠে। এ ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি একটি নাটকীয় ছবিতে যুদ্ধবিমানকে ইরানের তেলকূপে বোমা হামলা করতে দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, ‘বাই বাই, খার্গ।’
এর কয়েক দিন আগেই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার ধারণা নিয়ে ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন। পরে অবশ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুতর নয় বলে উল্লেখ করেন।
তবে ইরানি বন্দরগুলোতে ওয়াশিংটনের পাল্টা অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি করছে তেহরান। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব আক্রমণও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সর্বশেষ সংঘাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশটি।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, আনুপাতিক বা সমপরিমাণ প্রতিক্রিয়া জানানোর যুগ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে দ্রুততর, আরও তীব্র এবং বেদনাদায়ক।
এদিকে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, আগামী দিনে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করবে ইরান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকা মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ লাইন থেকে শুরু হয়ে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ওই নতুন এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রায় এক মাস শান্ত থাকার পর গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে। এর পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...