বিজ্ঞাপন
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাফিস আশরাফ ঢাকা গ্রিন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আশরাফুল আলম পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন, যিনি প্রায় দুই বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নাফিসের মা নাজিয়া আক্তার ঘোষেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অত্যন্ত সাদামাটা ও শান্ত প্রকৃতির এই পরিবারে দুই ভাই-বোনের মধ্যে নাফিস ছিলেন জ্যেষ্ঠ।
পরিবারের স্বজনেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে থাকা অবস্থায় গত ১৭ জুলাই (২০২৬) নাফিস গোপালগঞ্জের ঘোষেরচর ইসলামপাড়ায় নিজ বাড়িতে আসেন। এরপর থেকে তিনি অন্যান্য সাধারণ সময়ের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। নাফিস স্বভাবগতভাবেই ছিলেন অত্যন্ত নম্র, সহনশীল ও শান্ত প্রকৃতির। তাঁর পরিচিত ও স্বজনদের মধ্যে তিনি আস্থাভাজন হিসেবে গণ্য হতেন। কারো অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার হলেও তা মুখ বুজে সহ্য করাই ছিল তাঁর স্বভাব।
ঘটনার রাতে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নাফিসের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “তোরা ডাক না দিলে এত গভীর রাতে আমার ছেলে কখনো ঘরের বাইরে বের হতে পারে না।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, পরিচিত কারো প্ররোচনা বা পরিকল্পিত ডাকের শিকার হয়েই নাফিস সেদিন রাতে বাইরে গিয়েছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাফিসের বাবা জীবিত থাকা অবস্থাতেই গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশি ও মানিকহার এলাকার কয়েকজন যুবকের সাথে নাফিসের মেলামেশা ছিল। সরলপ্রকৃতির নাফিসকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখিয়ে তারা নানা স্থানে নিয়ে যেত বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এক মাস পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো সূত্র বা জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি একটি পুরোপুরি ‘ক্লুলেস’ ঘটনা হলেও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন অতি দ্রুত তদন্ত জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা ও এলাকাবাসী।
প্রতিবেদক- আনিচুল ইসলাম জার্মান, গোপালগঞ্জ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...