বিজ্ঞাপন
সাকিব ও তামিমের দূরত্বের বিষয়টি যখন প্রথম প্রকাশ্যে আসে, তখন তা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের জন্য। স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, মাঠ ও মাঠের বাইরে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা ছিল সর্বজনবিদিত; সবসময় একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া বা গল্প করার মতো বন্ধুত্বই দেখে এসেছেন সবাই। হঠাৎ করে সেই সম্পর্কের ফাটল টের পাওয়ার পর দলের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দুই তারকাকে একসঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন সুজন। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করে তিনি কেবল একটি অনুরোধই করেছিলেন—ব্যক্তিগত মতভেদ যা-ই থাকুক, তা যেন দেশের স্বার্থ বা ড্রেসিংরুমের পেশাদার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং কোনোভাবেই যেন গণমাধ্যমে না ছড়ায়।
তবে সুজনের মতে, জাতীয় দলের দুজন শীর্ষ তারকার সম্পর্ক মেরামতে কোনো জোরজবরদস্তির সুযোগ ছিল না। তাঁরা বয়সভিত্তিক দলের অনুর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের কোনো কিশোর ক্রিকেটার ছিলেন না যে কাউকে কোনো বিষয়ে হুকুম দেওয়া যাবে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলা পরিণত দুই মহাতারকা একে অপরকে এড়িয়ে চললে সেখানে তৃতীয় পক্ষের কিছু চাপিয়ে দেওয়ার বাস্তবতা ছিল না। ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বরফ আর গলেনি।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ড্রেসিংরুমের আবহকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছিল বলে মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক। ড্রেসিংরুমকে একটি পরিবারের মতো দেখা সুজন জানান, ভেতরের কোনো বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা তিনি কখনই সমর্থন করেন না। ওই ঘটনায় বিশ্বকাপের শুরুতে দলের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও টুর্নামেন্ট চলাকালে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। সতীর্থদের তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দলে সাকিব বা তামিমের ব্যক্তিগত অনুরাগী থাকতে পারে, কিন্তু মাঠে পারফর্ম না করলে কোনো পক্ষই কাউকে জায়গা দিতে পারবে না। ফলে ব্যক্তিগত দূরত্ব যাই থাকুক না কেন, পেশাদারিত্বের জায়গায় ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীল আচরণ ছিল স্পষ্ট। মাঠের পারফরম্যান্স ও ফলাফলের ব্যর্থতা স্রেফ ক্রিকেটীয় ঘাটতি, এর জন্য তাঁদের ব্যক্তিগত বিরোধকে এককভাবে দায়ী করা যায় না বলেই বিশ্বাস সাবেক এই টিম ডিরেক্টরের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...