বিজ্ঞাপন
ইংলিশ ফুটবলের জন্য এই লড়াইটি দীর্ঘ আক্ষেপ ঘোচানোর এক মহতী উপলক্ষও বটে। ২০০১ সালে লিভারপুল কিংবদন্তি মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনো ইংলিশ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জয়ের গৌরব অর্জন করতে পারেননি। কেইন যদি শেষ পর্যন্ত এই পুরস্কার নিজের করে নিতে পারেন, তবে ওয়েনের পর দীর্ঘ আড়াই দশক বা প্রায় ২৫ বছরের খরা কাটিয়ে ইতিহাস গড়বেন তিনি। একইসঙ্গে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েনের পর ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ফুটবলের সর্বোচ্চ এই ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নিজের ঝুলিতে ভরবেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। এই তালিকায় ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম ও ডেকলান রাইস মনোনয়ন পেলেও কেইনকে ঘিরেই প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি।
তবে কেইনের পথটা মোটেও নিষ্কণ্টক নয়; বরং ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। এই তালিকায় কেইনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে এবং বার্সেলোনার স্প্যানিশ ওয়ান্ডারকিড লামিন ইয়ামাল। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে এমবাপে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২টি গোল করেছেন, যার মধ্যে শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের ১১ ম্যাচেই করেছেন ১৫টি গোল। অন্যদিকে লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে ২৮ ম্যাচে ১৬ গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট করে তরুণ তুর্কি ইয়ামালও জানান দিয়েছেন বিশ্বসেরা হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। তাদের সঙ্গে স্পেনের হয়ে ইউরো এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ মাতানো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি ও সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসিও রয়েছেন সংক্ষিপ্ত আলোচনায়।
সাধারণত ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি শিরোপা জয় ও মাঠে চাপের মুখে নেওয়া প্রভাবকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন ভোটদাতারা। কেইন বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গোলমেশিন হিসেবে নিজের জাত চেনালেও এমবাপে, ইয়ামাল ও রদ্রিদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় সাফল্য লড়াইটিকে নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়। ইউরোপজুড়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও কোচদের ভোটে শেষ পর্যন্ত কার হাতে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই স্বীকৃতি শোভা পায়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে গোটা ফুটবল দুনিয়া।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...